অন্তরালের ছায়া !!
"আয়েশা সিদ্দীকা"
অধ্যায় ১: অজানা ছায়া
খুলনার গাঢ় দুপুর। আকাশে রোদ থাকলেও আয়েশার জীবন যেন মেঘে ঢাকা।
পুলিশ লাইনের কোয়ার্টার নম্বর D/12—সেখানে গত ১৪ বছর ধরে আটকে আছে সাবেক পুলিশ অফিসার আয়েশা। এক সময়ের সাহসী, বুদ্ধিমতী উপপরিদর্শক, এখন যেন এক অবহেলিত ছায়া।
দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা কালো ইউনিফর্ম পরা কনস্টেবলটি একটু কাঁচুমাচু ভঙ্গিতে বলে,
— “আপা, আবার সদর থেকে কল আসছে। আপনাকে ওসি স্যারের কক্ষে যেতে বলছে।”
আয়েশা জানে, এর মানে নতুন কোনো অপমান বা হুমকি। প্রতিবারের মতো এবারও সে চোখ নামিয়ে হালকা মাথা নাড়ে।
সে উঠে দাঁড়ায়, ইউনিফর্মটা পরে না—কারণ বহু বছর আগে সেটি খুলে ফেলেছিল অভিমান আর অপমানে।
কিছুক্ষণ পর সদর থানার অফিসে ঢোকে সে। ভেতরে বসে থাকা অফিসার তার দিকে না তাকিয়েই বলে,
— “তুমি তো ভাগ্যবান, এত বছর পরও লাইনে আছো। কতোজন তো হারিয়ে গেছে! কারও খোঁজ নাই…”
কথাগুলো কানে লাগে বর্শার মতো, কিন্তু চুপ করে থাকে আয়েশা। হঠাৎ তার ফোনটা বেজে ওঠে—একটা অজানা নম্বর।
আয়েশা রিসিভ করে।
— “তুমি এখনও বুঝো নাই, তাই না?”
কণ্ঠটা ভারী, গম্ভীর, অচেনা।
— “কে?” আয়েশা ধমকে জিজ্ঞেস করে।
— “তোমার চারপাশ সাজানো… তোমাকে মনে পড়বে, কিন্তু তখন দেরি হয়ে যাবে।”
কেটে যায় কল।
আয়েশা থমকে দাঁড়িয়ে থাকে। তার বুকের ভিতরটা ধুকপুক করছে। ১৪ বছরের ঘুম ভাঙানোর মতো কেউ যেন আবার সেই পুরনো রক্তের গন্ধটা ফিরিয়ে আনছে…
দরজার বাইরে আবার সেই ছায়া দেখা যায়—একটা ছায়ামূর্তি দাঁড়িয়ে আছে, মুখ দেখা যায় না।
⸻
অধ্যায় ২: পুরনো ফাইল, নতুন রহস্য
সেদিন রাতে ঘুম আসে না আয়েশার। বারবার কানে বাজে সেই ফোন কলে বলা কথাগুলো:
“তোমার চারপাশ সাজানো… তোমাকে মনে পড়বে, কিন্তু তখন দেরি হয়ে যাবে…”
সে নিজের পুরনো নোটবুক আর কিছু আলমারি ঘেঁটে বের করে আনলো একটা ধুলো ধরা ডায়েরি।
২০১০ সালের একটি হত্যা মামলার নোট—নাম ছিল “অপারেশন নীল ছায়া”। কেসটা সে নিজেই হ্যান্ডেল করেছিল, কিন্তু অদ্ভুতভাবে কাগজপত্র হারিয়ে যায় আর ফাইল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
একজন রাজনৈতিক নেতার নাম ঘুরেফিরে আসত তদন্তে—কিন্তু তখন তাকে ছোঁয়া তো দূরে থাক, নাম উচ্চারণ করাও ছিল নিষিদ্ধ।
সেই কেসে একাধিক পুলিশ সদস্য জড়িত ছিল, যারা এখন কেউই সার্ভিসে নেই। কেউ স্বেচ্ছায় রিজাইন করেছে, কেউ হারিয়ে গেছে, আর কেউ–কেউ খুন হয়েছে বলে গুজব।
আয়েশা ডায়েরির পাতা উল্টাতে উল্টাতে হঠাৎ থমকে যায়।
একটি ছবির পেছনে লেখা রয়েছে—
“S-45. ফাইলের চাবি তার কাছেই ছিল, এখন সে নিখোঁজ।”
“সে” কে?
হঠাৎ বাইরের বারান্দায় শব্দ হয়। আয়েশা ছুটে গিয়ে দেখে—কেউ যেন ছাদ থেকে লাফ দিয়ে নিচে নেমে পালিয়ে যাচ্ছে।
সে ছুটে গিয়ে দেখতে পায়—দেয়ালে আঁকা হয়েছে একটি চিহ্ন।
একটি চোখ—একেবারে নিখুঁতভাবে আঁকা। চোখের নিচে একটি সংখ্যা: “45”।
আয়েশার মনে পড়ে, “S-45” নামে একটা সিক্রেট কেস কোড ছিল যেটি শুধু মাত্র স্পেশাল টাস্ক ফোর্স জানত।
কিন্তু সেটা ছিল ক্লাসিফায়েড।
কিভাবে আবার সেই ফাইলের ছায়া ফিরে এলো?
⸻
অধ্যায় ৩: বন্ধুর মৃত্যু, প্রশ্নের সূচনা
পরদিন সকালে খুলনার রূপসা নদীর পাড়ে একজন ভিক্ষুকের দেহ পাওয়া যায়। মুখ থেতলানো, চোখ উপড়ে ফেলা—কোনো পরিচয় নেই।
থানায় খবর আসে:
— “মৃত ব্যক্তির আঙুলের ছাপ মিলেছে সাবেক এসআই তানভীরের সাথে।”
তানভীর—আয়েশার একমাত্র বন্ধু, সহযোদ্ধা, এবং “অপারেশন নীল ছায়া”-র সময় তার পার্টনার।
তানভীর শেষবার আয়েশার সঙ্গে দেখা করেছিল দুই বছর আগে, একটা কথা বলে:
— “সব ভুলে থাক, আয়েশা। সব মনে পড়লে খুব কষ্ট হবে।”
আয়েশা থানায় ছুটে যায়, মরদেহ দেখে। কিন্তু তার মন বলে—এটা শুধু হত্যা নয়, এটা বার্তা।
মৃত্যুর ধরন একেবারে প্রতীকী—চোখ উপড়ে ফেলা, যেন কেউ বলছে, “তুমি যা দেখছো, তা দেখা নিষেধ।”
সেদিন রাতে আবার সেই অজানা নম্বর থেকে ফোন আসে।
— “তানভীর কথা রাখেনি। তুমি কি রাখবে?”
আয়েশা এবার কাঁপে না, ভয় পায় না। তার ভিতরে ১৪ বছরের জমে থাকা রাগ, অপমান জেগে ওঠে।
সে পেছনে রাখা ডাস্ট-কাভার ঢাকা একটি ছোটো লোহার বাক্স খোলে—
ভেতরে পড়ে আছে তার পুরনো সার্ভিস রিভলভার।
⸻
অধ্যায় ৪: ভেতরের শত্রু
আয়েশা পুরনো কিছু যোগাযোগ সক্রিয় করে। অনেক চেষ্টা করে খুঁজে পায় এক প্রাক্তন গোয়েন্দা কর্মকর্তার অবস্থান—নাম রফিক হোসেন, যিনি ২০১২ সালে হঠাৎ চাকরি ছেড়ে দেন এবং আত্মগোপনে চলে যান।
ঢাকার বাইরে একটা পুরনো বাড়িতে দেখা হয় তাদের। আয়েশা চুপচাপ বসে, রফিক তার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।
— “তুমি এসেছো মানেই কেউ আবার সেই খেলা শুরু করেছে,” ধীরে ধীরে বলে রফিক।
— “তানভীরকে মেরে ফেলেছে। আমি পরবর্তী শিকার।”
রফিক আয়েশার দিকে একটি পেপার কাটা ছেঁড়া নথি এগিয়ে দেয়।
— “এটা সেই অপারেশন নীল ছায়ার লাস্ট রিপোর্ট। কাগজে নাম নেই, কিন্তু কাজে জড়িত ছিলো একজন অতিপরিচিত মুখ—ডিআইজি শওকত হোসেন।”
আয়েশার চোখ কপালে উঠে যায়।
শওকত হোসেন—বর্তমানে একজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা, যিনি খোলাখুলি সরকার ঘনিষ্ঠ এবং “দেশবিরোধী শক্তি দমন টাস্কফোর্স”-এর নেতৃত্বে আছেন।
রফিক আবার বলে,
— “সে শুধু পুলিশ না, এখন সে একটা ছায়া সরকার চালাচ্ছে। সাবেক অফিসারদের সে একে একে সরিয়ে দিচ্ছে। কারণ, আমরা জানি তার গোপন অপারেশনের সত্য।”
আয়েশার গলা শুকিয়ে আসে।
তার মানে, খুনগুলো ব্যক্তিগত নয়—এগুলো রাজনৈতিক “সাফাই অভিযান”।
রাত গভীর হয়। আয়েশা রফিকের বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে। কিন্তু কেউ একজন তার গতিবিধি লক্ষ্য করছে—
একটি কালো ভ্যান গাড়ি ধীরে ধীরে তার পেছনে চলছে, হেডলাইট নিভিয়ে।
⸻
অধ্যায় ৫: গোপন ফাইল, লুকানো সত্য
আয়েশা ফেরার পথে জানে, এবার আর পেছনে ফেরার সুযোগ নেই। তার গাড়ি নিয়ে সোজা চলে যায় নগরীর একমাত্র ভরসাযোগ্য মানুষ—সাংবাদিক নাজিম উদ্দিন—এর কাছে।
নাজিম ছিলেন একসময় ক্রাইম রিপোর্টার, বর্তমানে একটি অনলাইন পোর্টালের সম্পাদক। তানভীরের মৃত্যুর খবরে তিনিও আতঙ্কে ছিলেন।
নাজিম আয়েশাকে দেখে বলে,
— “তানভীর আমার কাছেও কিছু রেখে গিয়েছিল। বলেছিল, যদি তার কিছু হয়, এটা যেন তোমাকে দেই।”
সে একটা ছোট পেনড্রাইভ এগিয়ে দেয়।
ঘরে লাইট নিভিয়ে, ল্যাপটপে ফাইল চালু করে আয়েশা যা দেখে, তাতে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে তার।
ভিডিও ফাইল—
দেখা যায়, ২০১০ সালের একটি গোপন অপারেশন। সেখানে চোখ বাঁধা একজন ব্যক্তিকে নির্যাতন করছে একদল পুলিশ অফিসার।
একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা তাকে নির্দেশ দিচ্ছেন:
— “একে স্বীকারোক্তি নিতে হবে। জানি সে নির্দোষ। কিন্তু উপরের নির্দেশ।”
ভিডিওর শেষ অংশে ক্যামেরার দিকে মুখ ঘুরিয়ে দাঁড়ায় এক নারী অফিসার—আয়েশা নিজে।
সে চিৎকার করে উঠে:
— “না, এটা আমি না… আমি তো এই কেসে ছিলামই না!”
নাজিম শান্তভাবে বলে:
— “তুমি ছিলে। হয়তো মনে নেই। হয়তো মনে রাখা হয়নি। কিন্তু তুমি সেই অপারেশনের অংশ ছিলে। আর এখন, যারা ওই ফাইল জানে, তারা সবাই মার খাচ্ছে।”
আয়েশা নিজের মুখ, নিজের কণ্ঠস্বর, নিজের হাত—সবকিছু দেখে।
তার মাথায় একটাই শব্দ ঘুরছে—
“আমি কি খুনি?”
⸻
অধ্যায় ৬: নিজের বিরুদ্ধে যুদ্ধ
পেনড্রাইভের ভিডিও দেখে আয়েশার মনে হতে থাকে—তার স্মৃতির ভেতর লুকানো আছে এমন কিছু, যা কাউকে বলার সাহস তার ছিল না, আর মনে রাখার সাহস সে রাখেনি।
পুরনো দিনের ঘটনাগুলো ভেসে ওঠে—সেই রাত, সেই বন্দুকের গুলি, সেই নির্যাতিত ব্যক্তির চিৎকার।
তাকে বলা হয়েছিল সে একজন দেশবিরোধী গুপ্তচর, অথচ আয়েশার সন্দেহ হয়েছিল—এই লোকটি নির্দোষ।
তবুও সে কিছু করেনি, চুপ থেকেছিল, অংশ নিয়েছিল।
সে বুঝতে পারে—এই অপরাধ শুধু শওকতের নয়, তার নিজেরও।
এখন সে চায় সত্য প্রকাশ করতে, কিন্তু জানে, তা মানে নিজের শেষ ডেকে আনা।
আয়েশা সিদ্ধান্ত নেয়—সবকিছু লিখে রাখবে।
তার জীবনের প্রতিটি সত্য, অপারেশনের খুঁটিনাটি, সব কিছু… যেন সত্য চাপা না পড়ে।
সে শুরু করে একটা গোপন ব্লগ। নাম দেয়:
“অন্তরালের ছায়া: একজন অপরাধীর স্বীকারোক্তি”
প্রথম পোস্টে লেখে:
“আমি সাবেক পুলিশ অফিসার আয়েশা। আমি খুন করেছি। আমি চুপ থেকেছি। এখন আমি কথা বলব।”
কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে দরজায় এক কড়া নেড়ে ওঠে।
সে দরজা খুলে দেখে—দুজন লোক, কালো পোশাকে। চোখে সানগ্লাস।
তারা শুধু একটাই কথা বলে:
— “আপনাকে আমাদের সঙ্গে যেতে হবে। বিশেষ সেলের নির্দেশ।”
আয়েশা বুঝে যায়—সময় ফুরিয়ে আসছে।
⸻
অধ্যায় ৭: অন্তরালের ছায়া
আয়েশা নিঃশব্দে গাড়িতে ওঠে। জানে, এই মুহূর্তে পেছনে ফিরলে কিছুই বাঁচবে না। সঙ্গী দুজনের সাথে সে চলে যায় এক অজ্ঞাত স্থানে—একটি পরিত্যক্ত অফিস ভবনের নিচতলায়।
অফিস ভবনের ভেতরটা অন্ধকার, ঠাণ্ডা। দেয়ালগুলোতে গা dark ় ছায়া। ভিতরে এসে দুজন লোক তাকে নির্দেশ দেয়,
— “আপনার হাত পেছনে বাঁধুন।”
এখন আয়েশা বুঝতে পারে, সে আসলে পুলিশের গোপন শাখার হাতে বন্দী। এখন তাকে আর কোনো ভরসা নেই।
একজন লোক সামনে এসে তার দিকে তাকায়।
— “এখন তুমি আমাদের কাছে আছো, আয়েশা। তুমি জানো, তুমি যেখানে ছিলে, সেখানে আমাদের অনেক ‘নিজস্ব’ লোক ছিল। তুমি আর তোমার বন্ধু তানভীর অনেক বড় জালে জড়িয়ে গেছো।”
আয়েশা মাথা নিচু করে বলে,
— “তানভীরকে মেরে ফেলল, কিন্তু আমি জানি সে মিথ্যা কিছু করেনি।”
লোকটি হেসে ওঠে,
— “তানভীর ছিল আমাদের এক অংশ, আয়েশা। কিন্তু তোমার তো এখন আর কিছু করার নেই। আমরা জানি, তুমি ব্লগে সত্য লেখেছো। তুমি এভাবে সত্য প্রকাশ করলে, তোমার পুরো জীবন বরবাদ হয়ে যাবে।”
আয়েশা ঠাণ্ডা কণ্ঠে বলে,
— “তাহলে আমাকে মেরে ফেলো। তবে জানো, আমি জানি তোমরা সবাই কি। আমি যা জানি, সেটাই হবে। আমার মৃত্যুর পর সব কিছু উন্মোচিত হবে।”
লোকটির মুখে তিক্ত হাসি,
— “তুমি জানো না, আয়েশা। সত্য আর মিথ্যা আলাদা জায়গায় থাকে। আমাদের কাছে না আসলে, তোমার এই ‘সত্য’ কখনোই প্রকাশিত হবে না।”
আয়েশা জানে, এই মুহূর্তে তাকে বাঁচানোর একমাত্র পথ—তাকে বিশ্বাস করা কেউ থাকতে হবে। কিন্তু কে?
তখন তার ফোন বাজে—সেই অজানা নম্বর। ফোন ধরতেই শব্দ আসে:
— “আয়েশা, চলে আসো। তোমার পাশে কেউ আছে। এখন সময় পাল্টানোর।”
ফোন কেটে যায়।
আয়েশা চুপচাপ চোখে পানি জমায়, আর মনে মনে বলে—“এখন হয়তো আমি সঠিক পথ খুঁজে পাবো…”
⸻
অধ্যায় ৮: মুক্তি, না বিচার?
আয়েশা ফোনটি রেখে দেয়। তার মনে কিছু একটা জ্বলে উঠেছে, কিন্তু সাথে সাথে ভয়ও। সে জানে, এই ফোন যে করেছে, সে তার পাশে দাঁড়াবে না, তাকে আরও গভীর অন্ধকারে টেনে নিয়ে যাবে।
দুজন লোক এখনও তার সামনে দাঁড়িয়ে, কিন্তু চোখে ভয়, আতঙ্ক নেই। বরং, যেন এক ধরনের নির্ভীকতা নিয়ে তারা অপেক্ষা করছে।
আয়েশা একবার পেছনে তাকিয়ে দেখে—ভেতরে পুরো ভবনটা গা dark ় হয়ে উঠেছে। যেন এক অন্ধকার ছায়া, তার চারপাশ ঘিরে ধরছে। এই ছায়ার মধ্যে সে একা।
তখনই দরজা খুলে একজন লোক প্রবেশ করে। তার মুখ ঢাকা, শুধু চোখ দুটি স্পষ্ট। তার হাতে একটি ব্যাগ। সে এগিয়ে আসে এবং বলেঃ
— “আয়েশা, আমি জানি তুমি এখন কোথায়, কিভাবে। আমি সাহায্য করতে চাই।”
লোকটি ব্যাগটি আয়েশার হাতে তুলে দেয়। ব্যাগের ভেতর দুটি জিনিস—একটি পাসপোর্ট, আর একটি ছোটো চিপ।
লোকটি বলেঃ
— “এটা তোমার মুক্তির রাস্তা। পাসপোর্টটা দিয়ে তুমি দেশের বাইরে চলে যেতে পারবে। চিপটা হলো গোপন তথ্য, যা সবকিছু উন্মোচন করতে সক্ষম। শওকত, রফিক—সবই পরিষ্কার হয়ে যাবে। তবে, সিদ্ধান্ত তোমার। তুমি কি পালাবে, নাকি প্রতিশোধ নেবে?”
আয়েশা তখন চুপচাপ বসে পড়ে। তার মনে একটাই প্রশ্ন—তার মুক্তি কি সত্যিই সম্ভব?
তবে, সে জানে—মুক্তি আর বিচার দুই আলাদা রাস্তা। একটা তাকে নিজের পরিচয় হারাতে হবে, আর আরেকটি তাকে নিজের পরিচয়ে ফিরে যেতে হবে, কিন্তু জীবনের ঝুঁকি নিয়ে।
সে ব্যাগটি নেয়, পাসপোর্ট বের করে দেখে। তার চোখে জল এসে যায়। দেশের বাইরে যাওয়ার পথ হাতে, কিন্তু সে জানে—আসল যুদ্ধ শুরু হতে যাচ্ছে।
হঠাৎ জানালা থেকে আলো এসে পড়লে, তার চোখের সামনে ফিরে আসে এক দৃশ্য—এক অজানা ভবিষ্যৎ। তাকে বেছে নিতে হবে।
আয়েশা দরজার দিকে তাকিয়ে, এক গভীর নিঃশ্বাস নিয়ে বলে,
— “আমি যেখানেই যাই, আমি সত্যের পক্ষে দাঁড়াবো। আর আমি জানি, শেষ পর্যন্ত আমি নিজেকে ঠিকভাবে প্রমাণ করতে পারব।”
বইয়ের পাতা বন্ধ হয়ে যায়।
⸻ সমাপ্ত